মারের সাগরে বিজয়ী বোধিসত্ত্ব
লেখক: সনৎকুমার সাহা
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের আমি ছাত্র হতে পারি নি। পড়াশোনা করেছি মফস্বল শহরে। এখনও সেখানেই পড়ে আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সহকর্মী হবারও তাই কোনো সুযোগ ঘটে নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই-ই আমার কাছে অনেক দূরের। তাঁর কর্মক্ষেত্র প্রধানত ঢাকা। মাঝখানে একটা উল্লেখযোগ্য অংশ চট্টগ্রাম। তাঁকে ঘিরে মেধার চর্চা ওই দুই জায়গাতেই। এখানেও কখনো কখনো আসেন। তবে অতিথি হয়। প্রতিদিনের কাজে আমরা তাঁকে পাই না। তাই বলে তিনি দূরের মানুষ নন। আসলে যখন আমরা ছাত্র, তখনই তাঁর নাম জানি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রত্ন। খ্যাতি তাঁর সারা দেশে ছড়ায়। মনে মনে তাঁকে আদর্শ বলে মানি। তিনি অবশ্য তা জানতেও পারেন না।
বিপুল অধ্যয়নের সঙ্গে মানবমুক্তির প্রগ্রসর ভাবনার সাহসী ও একই সঙ্গে বিনয়ী মিশ্রণের তিনি হয়ে ওঠেন এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা অনুপ্রাণিত হই।
শুনেছি, নাজিম মাহমুদ বলেছিলেন, খুব অল্প বয়সে, বোধ হয় তেরোও হয় নি, আনিসুজ্জামান ম্যাট্রিক পাশ করেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরা খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। চুয়ান্নর নির্বাচনের পর একসময় নাজিম মাহমুদের বাবা, হাকিম সাহেব আমাদের প্রাদেশিক আইনসভার স্পিকার হন। তখন তাঁর পাস্ নিয়ে দুই বন্ধু আইন সভার কাজকর্ম দেখতে যেতেন। তাঁদের অভিযানের অনেক মজার মজার ঘটনা নাজিম মাহমুদের কাছে শুনেছি। আনিসুজ্জামানের বুদ্ধির ঝিলিক সে সবে ফুটে উঠত। নাজিম মাহমুদ অকালে চলে গেলেন। ভাবতে খুব কষ্ট হয়। আনিসুজ্জামানের এই সংবর্ধনায় তিনি থাকলে আজ দারুণ খুশি হতেন। তাঁদের সমসাময়িক আর একজন আনিসুজ্জামানের মতোই প্রডিজি। তিনি ডক্টর কামাল হোসেন। শুনতাম, মাত্র তেইশ বছর বয়সে তিনি বিলেতের পি-এইচ.ডি. আর বার-এট-ল। আনিসুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথাও কানে আসত। সমাজ-সংস্কৃতি-রাজনীতির অঙ্গনে তাঁরা কাছাকাছি ছিলেন। পরে অনেক ক্রান্তিলগ্নে তাঁরা একসঙ্গে হয়েছেন। আনিসুজ্জামানকে খুব স্নেহ করতেন। মেধার চর্চায় তাঁর প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠা কোনো সহজ ব্যাপার নয়। আনিসুজ্জামান তার যোগ্য হয়ে উঠেছিলেন, যোগ্য থেকেছেন, যোগ্য আছেন। প্রফেসর রাজ্জাক আজ আর নেই। তবে অনুমান করি, তাঁর প্রেরণা তাঁর কৃতী শিষ্যটি এখনও বহন করে চলেন।
অল্প বয়সে যাদের মনে হয় বিস্ময়-প্রতিভা তাদের অনেকের কপালেই অভিশাপ আঁকা থাকে। প্রত্যাশার চাপ কাউকে কাউকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে, কেউবা সম্ভাবনার সঠিক পথ বাছতে ভুল করে, কেউ আবার খেই হারিয়ে ফেলে, প্রতিভাও দ্রুত এসে দ্রুত চলে যায় কারো কারো বেলায়। আমাদের সৌভাগ্য, প্রফেসর আনিসুজ্জামানের বেলায় তেমন কোনোটি ঘটে নি। সম্ভাবনার সবটুকু তিনি পূরণ করে চলেছেন কিনা জানি না। কারো বেলাতেই জানা যায় না। নশ্বর জীবনে সময় ও সুযোগের সীমাবদ্ধতা থাকে। তার ভেতরেই পথ বাছাই করা, পথ কেটে এগুনো। অনেক পথের সম্ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হয়। ফলে প্রতিভার পরিচর্যা এক বিশেষ আকার পায়। সাধ্য থাকলেও চৈতন্যের অন্যান্য বন্ধ দুয়ারে হানা দিতে পারে না। এই রকমই তাঁর বেলাতেও। তবে তাঁর নির্বাচিত পথ থেকে তিনি সরে আসেন নি। তাঁর নিষ্ঠারও কোনো অভাব হয় নি। প্রতিভার বিকাশ তাই থেমে থাকে নি; এবং তা আমাদের কল্যাণের স্বপ্ন-কল্পনাকে বাস্তবরূপ দেওয়ায় একভাবে একটানা তার ভূমিকা রেখে চলেছে।
ভাষা-আন্দোলনের গনগনে আঁচে পরিশুদ্ধ হন তিনি বালক বয়সেই। হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় একুশে ফেব্রুয়ারির ওপর যে অসামান্য প্রথম সংকলন, তার প্রকাশনায় অগ্রণী ভূমিকা ছিল তাঁরও। তা ছাড়া গল্পও লেখেন তাতে। আমরা অবাক হই। কারণ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ওই কিশোরের গল্পটির মূল্য উপেক্ষা করতে পারে না, অথচ তিনি যে আর গল্প লিখেছেন, এমনটি জানতে পারি না। পরে বাংলা সাহিত্যের গবেষণায় ও মননশীল প্রবন্ধ রচনায় তাঁর অবদান সামনে চলে আসে। সেখানে যে-মান তিনি বেঁধে দেন, তা অতিক্রম করা দুরূহ। দৃষ্টির স্বচ্ছতা ও
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments